বাসার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জায়গা হলো বাথরুম। প্রতিদিনের ব্যবহারের ফলে মেঝে ও দেয়ালে পানির দাগ ও সাবানের আস্তরণ জমে জেদি কালচে দাগ পড়তে পারে। এমন নোংরা বাথরুম কেবল দেখতেই খারাপ লাগে না, বরং এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।
কিন্তু কিছু সাধারণ কৌশল ব্যবহার করেই আপনি আপনার বাথরুম নতুনের মতো পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে পারেন। চলুন জেনে নিই পরিষ্কার ঝকঝকে বাথরুমের ৫টি জাদুকরী টিপস —
ভিনেগার ও বেকিং সোডার জাদুকরী ব্যবহার
বাথরুমের টাইলস বা বেসিনের কোণায় জমে থাকা জেদি দাগ দূর করতে ভিনেগার এবং বেকিং সোডার কোনো বিকল্প নেই। প্রথমে দাগযুক্ত জায়গায় সামান্য বেকিং সোডা ও ভিনেগার ছিটিয়ে দিন। তারপর এই মিশ্রণটি ১০-১৫ মিনিট এভাবেই রেখে দিন। এরপর একটি হার্ড ব্রাশ দিয়ে হালকা ঘষলেই দেখবেন জেদি কালচে দাগ চোখের পলকে উধাও হয়ে গেছে।
ফ্লোর ও বেসিন নিয়মিত ব্রাশ করুন
অনেকেই বাথরুম সপ্তাহে একবার পরিষ্কার করেন। কিন্তু প্রতিদিন ব্যবহারের কারণে বাথরুমের মেঝেতে ময়লা জমতে শুরু করে। যা পরে ধুয়ে পরিষ্কার করা কষ্টকর।
কিন্তু আপনি যদি প্রতিদিন বা একদিন পর পর বাথরুমের ফ্লোর এবং বেসিন হালকা ব্রাশ করেন, তবে জেদি দাগ জমার সুযোগই পাবে না। তাই নিয়মিত বাথরুম ব্রাশিং বা স্ক্রাবিংয়ের অভ্যাস করুন , তাহলে আপনার বাথরুমের মেঝে, টাইলস ও বেসিন পরিষ্কার ও চকচকে থাকবে।
দাগ উঠবে গরম পানিতে
তেল চিটচিটে ময়লা দাগ ও হলদে টাইলস শুধু সাবান পানিতে পরিষ্কার হয় না! এরজন্য প্রয়োজন গরম পানি। বাথরুম পরিষ্কারের জন্য প্রথমে ফ্লোর বা টাইলসে গরম পানি ঢেলে দিন। গরম তাপে জমে থাকা ময়লা আলগা হয়ে যাবে। যা পরে খুব সহজেই ধুয়ে ফেলা সম্ভব। এছাড়া ট্যাপ বা শাওয়ারে জমে থাকা পানির দাগ দূর করতে গরম পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
কমোড ও ড্রেন পরিষ্কারে বাড়তি নজর
বাথরুমের কমোড ও ড্রেন থেকেই সবচেয়ে বেশি জীবাণু ছড়ায়। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন ভালো মানের ডিসইনফেক্ট্যান্ট বা ব্লিচিং দিয়ে টয়লেট পরিষ্কার করুন। আর ড্রেনের ভেতর পরিষ্কার করতে এরমধ্যে গরম পানি ও লবণ ঢেলে দিন। এতে ড্রেনেজ পাইপ পরিষ্কার থাকবে এবং পোকামাকড় ও দুর্গন্ধ দূর হবে।
মেঝে সবসময় শুকনো রাখুন
ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় জেদি দাগ ও ছত্রাক (Mold) বেশি জন্মায়। তাই বাথরুম মেঝেতে পানি জমে থাকতে দিবেন না। বাথরুম ব্যবহারের পর একটি ওয়াইপার দিয়ে পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলুন এবং বাথরুমের জানালা খোলা রাখুন। বাথরুম যত শুকনো থাকবে, টাইলসের ফাঁকে কালচে দাগ ও জীবাণু জমার সম্ভাবনা তত কমবে।
শেষ কথা
একটি পরিষ্কার বাথরুম আপনার রুচি এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার পরিচয় দেয়। বাথরুম পরিষ্কার রাখা কোনো জটিল কাজ নয়, বরং সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে এটি খুবই সহজ। উপরের এই ৫টি টিপস অনুসরণ করে আপনি খুব সহজেই আপনার বাথরুম সবসময় ঝকঝকে, জীবাণুমুক্ত এবং ব্যবহারের উপযোগী রাখতে পারবেন।